প্রহরী – Vehicle Tracking System (VTS) of Bangladesh

পড়তে লাগবে: 5 মিনিট

যে ৫ টি লক্ষণ দেখে বুঝবেন গাড়ির ব্রেক পরীক্ষা করা দরকার

মনে করুন,  কোন একটি সুন্দর ,শান্ত সকালে সূর্যের নরম আলোয় জানালার গ্লাসটি নামিয়ে আপনি গাড়িতে গান শুনতে শুনতে হালকা মেজাজে  কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন। হঠাৎ করেই একটি স্টিলের বা কাঁচের টুকরা সামনে চলে আসলো । ৬০ কিমি গতিতে চালানো গাড়িটি খুব দ্রুত ব্রেক করা দরকার কিন্তু আপনি করতে পারছেন না । ব্রেক করার পর ফুটবল খেলার মাঠের সমান জায়গা লেগে যায়  গাড়িটিকে থামাতে । আর এই ঘটনাটি তখনই ঘটবে যখন আপনি আপনার গাড়ির ব্রেক নিয়মিত পরীক্ষা করবেন না । এরকম কিছু মনে হলে দ্রুত গাড়ির ব্রেক পরীক্ষা করা জরুরী ।কারণ এই সামান্য একটি গাড়ির ব্রেক যার উপর নির্ভর করে আপনার জীবনের পুরো নিরাপত্তা।  যদিও গাড়ির ব্রেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি বা মডিফিকেশনের কোন উপায় নেই কিন্তু তবু একটি গাড়ির সবথেকে জরুরী পার্টস হচ্ছে ব্রেক। আর খারাপ ব্রেকের কিছু লক্ষন র‍য়েছে , যে ৫ টি লক্ষণ দেখে বুঝবেন গাড়ির ব্রেক পরীক্ষা করা দরকার-

১. জীর্ণ ব্রেক প্যাড 

আগে জানতে হবে কীভাবে ব্রেক কাজ করে। বেশিরভাগ গাড়িতে ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়। দশটি গতিসম্পন্ন বাইসাইকেলের সমান কাজ করে এই ডিস্ক ব্রেক। একটি হাইড্রোলিক সিস্টেমে ট্রিগার ফ্লুয়িড ভরা থাকে এবং একটি প্যাডের সেট দিয়ে বাঁধা থাকে যা ক্যালিপার নামে পরিচিত। আর এই ডিস্কটিকে একসাথে পেচিয়ে ধরে রাখার জন্য একটি রটোর ব্যাবহার করা হয়। প্যাড এবং রটোরের মধ্যকার যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তার মাধ্যমেই মূলত গাড়িটি বন্ধ হয় ।

নতুন (উপরে) ও পুরাতন জীর্ণ (নিচে) ব্রেক প্যাড

কিছু দিন ব্যবহারের পর আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন প্যাডগুলো চিকন হয়ে যাচ্ছে। ঘর্ষণের ফলে প্যাডগুলো দুর্বল হয়ে যায় ও  গাড়িতে ব্রেক করতে  গেলে অনেক সময় লেগে যায়। ব্রেক প্যাডের ঘনত্ব কতটুকু আছে সেটা পরীক্ষা করার একটু সহজ উপায় হচ্ছে , ক্যালিপারের উপরে থাকা ব্রেক প্যাড একটু মুচড়িয়ে দেখা। চাকার স্পোকের অংশের ভেতর দিয়ে তাকিয়ে রটোরের ধাতুর চকচকে অংশটি খুঁজে বের করতে হবে।  আর রটোরের বাইরের চারপাশে থাকে ধাতুর তৈরি ক্যালিপার। আর এই রটোর ও ক্যালিপারের মাঝখানে থাকে প্যাড।  আপনি আঙ্গুল দিয়ে মেপে দেখতে পারেন। সাধারণত একটি ব্রেকপ্যাড এক চতুর্থাংশ ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু হয়ে থাকে।  কিন্তু এরথেকে বেশী পাতলা হলে অবশ্যই প্যাডটি পাল্টে নেবেন। যদি গাড়ির চাকার স্পুকগুলো দেখতে ডিজাইনের মত না হয় তাহলে টায়ার খুলে ভেতরে রটোর আর প্যাড পরীক্ষা করে নেবেন। রটোরে যদি কোন খাজ বা গর্ত থাকে তাহলে অবশ্যই রটোরটি পাল্টে ফেলবেন।

২. অদ্ভুত শব্দ হওয়া গাড়ির ব্রেক খারাপ হওয়ার লক্ষন 

গাড়িতে বসেই অনেকে ফুল ভলিওমে গান চালিয়ে নেন। গাড়িতে বেশী জোড়ে সাউন্ড দিয়ে গান শোনা যেমন আপনার কানে সমস্যা করে, তেমনই গাড়ির ব্রেকেও সমস্যা করে।  আপনার গাড়ির ব্রেক ঠিক করতে হবে ব্যাপারটি বোঝার ছোট্ট  আরেকটি লক্ষন হচ্ছে , যখন ব্রেক করা হয় তখন অনেক বেশী চাপ প্রয়োগ করা হয় তখন ব্রেকিং সিস্টেমটি বন্ধ হয়ে যায়। আর হ্যাঁ, এমনটা হলে অবশ্যই ব্রেক প্যাডটি পাল্টাতে হবে।  আর যদি গাড়ির গ্লাস উপরে ওঠানো অবস্থায়ও গাড়ির ভেতরের শব্দ পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই গাড়িটি একজন ভাল মেকানিকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

সমস্যা অল্প থাকতেই ব্রেক সেরে ফেলুন ।

৩. পুলিং বা হঠাৎ টান খাওয়া

কখনো কি আপনার এরকম মনে হয়েছে যে আপনার গাড়ির নিজের অনুভূতি রয়েছে ! যখন স্টিয়ারিং হুইলটি ডানে বা বামে ঘুরানোর সময় গাড়ি নিজেই অন্য কোন একদিকে ঘুরে যেতে চায় তখন এমনটাই মনে হয় যে, গাড়ি কি নিজ থেকে চলছে?  আর যদি এরকম কিছু হয়েই থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার গাড়ির খারাপ ব্রেকের লক্ষন হিসেবে ধরতে হবে । আর কারণ হতে পারে শক্তভাবে আটকে যাওয়া ক্যালিপার। চাকার ঘর্ষণের কারনে এমনটা হতে পারে। গাড়ির যেপাশে ক্যালিপারটি আটকে যায় সে পাশে আপনার গাড়িটি আটকে যেতে পারে। আরো দুটি কারনে আপনার গাড়িটি ত্থেমে যেতে পারে একটি হল, যখন ব্রেক করার পর অসমানভাবে ক্যালিপারগুলো নড়ে আর গাড়ির ব্রেকে কভারটি বন্ধ করে দেয়। অথবা অসমান ব্রেক প্যাড যখন বিভিন্ন চাকায় বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। থেমে যাওয়া সবসময় যে ব্রেকের সমস্যার কারনে হতে পারে এরকম না। অসমান, খারাপ অ্যালাইনমেন্ট, যানবাহনের সাস্পেন্সনের সমস্যা, ছেড়া টায়ার ইত্যাদি কারনেও এরকম সমস্যা হতে পারে। এরকম সমস্যার সম্মুখীন হলে গাড়িটি কোন ভাল মেকানিকের দোকানে নিয়ে যান হয়তো অল্প সমস্যা থাকলে সহজেই সেরে যাবে।

চাকার ডিস্কের সাথে যুক্ত ক্যালিপার।

৪. কম্পন অনুভূত হওয়া

কখনো যদি এমন হয় , আপনার জরুরী ভিত্তিতে অ্যান্টিলক ব্রেক চেপে গাড়ি থামাতে হচ্ছে , তাহলে তো আপনি আগে থেকেই জানেন যে, হুট করে গাড়ির গতি কমানোর ফলে কীভাবে ব্রেক প্যাড বা চাকা কেঁপে ওঠে। আর  রটোরের মাধ্যমে গাড়ির গতি কমাতে হবে । আপনার গাড়িতে স্বাভাবিক ব্রেক করার বেলায়ও যদি ব্রেকিং সিস্টেম  এভাবে কেঁপে ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার গাড়ির ব্রেকিং এ সমস্যা রয়েছে।  আর এই লক্ষন দেখলেই বুঝতে হবে, আপনার গাড়ির রটোর হয়ত খুলে গেছে বা ঢিলা হয়ে গেছে। রটোরের অমসৃণ জায়গাগুলো যখন ব্রেক প্যাড চাপ দেয় তখন এমন কম্পন অনুভূত হয়ে থাকে। যা আপনি ব্রেক প্যাডেলে পা রেখেই বুঝতে পারবেন।

সাধারণত রটোর সহজে ক্ষয় হয়ে যায় না। তবে গাড়ির উপরে যখন অনেক চাপ পড়ে বা ভার বহন করা হয়, অথবা গাড়ি মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রটোর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যেতে পারে । এছাড়াও যখন কোন খাড়া রাস্তায় যাওয়া হয় বা কোন ভারী জিনিস টেনে নেওয়া হয় তখন ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় । আর এই তাপের কারনে রটোরের আকারের পরিবর্তন হতে পারে।

৫. সংবেদনশীল ব্রেক প্যাডেল

কম্পনের পাশাপাশি গাড়ির ব্রেক প্যাডেলে পা রেখেও বুঝতে পারবেন আপনার গাড়ির ব্রেক সিস্টেমে কোন সমস্যা আছে কিনা।  ব্রেক প্যাডেল ঢিলা বা নরম হয়ে গেলে দেখবেন, ব্রেক করার আগেই সেটা গাড়ির মেঝে ছুঁইছুঁই করে। এক্ষেত্রে বুঝতে হবে ব্রেক প্যাডে কোন সমস্যা আছে বা ব্রেক প্যাড পুরোনো হয়ে গেছে। হাইড্রোলিক  সিস্টেমের ত্রুটির কারনেও এমন হতে পারে।

এছাড়া লাইনে বাতাস ঢুকে যাওয়া, বাতাস লিক হয়ে যাওয়া অথবা ব্রেকের ফ্লুয়িড লিক হওয়া ইত্যাদির কারনে ব্রেক করতে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। আচ্ছা এখন মনে করুন কীভাবে ফ্লুয়িড লিক চেক করবেন ? সারারাত গাড়ির নিচে একটি সাদা কাপড়ের টুকরা অথবা কোন পাতলা কার্ডবোর্ড দিয়ে রাখবেন । সকালে যদি দেখেন কোন তেল কাপড়ের টুকরায় লেগে আছে তাহলে বুঝতে হবে যে লিকেজ রয়েছে আর না থাকলে কোন ভয় নেই।

অন্যদিকে ব্রেক প্যাডেল শক্ত হয়ে গেলে, হালকা স্পর্শেই কাজ করতে সক্ষম হয়। অমসৃণ ও জীর্ণ রটোর, ব্রেক ফ্লুয়িডে ময়লা বা ব্রেক ফ্লুইডে বাতাস ঢুকে আদ্র হয়ে গেলে এমনটা হতে পারে। আপনি এই ধরনের সমস্যায় নিজেই ফ্লুয়িড পরিবর্তনের মাধ্যমে সারতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার খরচ খুব কম হবে।

ব্রেকপ্যাড ঠিক থাকলে খুব সহজেই পা দিয়ে ব্রেক করা যায়।

গাড়ির ব্রেক গাড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রেকের যেকোন সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব সেরে নেবেন। তানাহলে ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে। গাড়ি যখন আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন আপনার জীবনও থাকবে নিরাপদে।

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top