প্রহরী জিপিএস ট্র্যাকার

গাড়ির কার্বন কর
পড়তে লাগবে: 3 মিনিট

গাড়ি ব্যবহারে গুনতে হবে কার্বন কর!

যত বেশি জ্বালানি ব্যবহার হয় তত বেশি পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আবার ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে সংকট রয়েছে। এরকম অবস্থায় একের বেশি গাড়ি নিরুৎসাহিত করতে কার্বন কর ধার্য করেছে বাংলাদেশ সরকার। এক্ষেত্রে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে কোন গাড়িতে কত টাকার টাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নত দেশে গাড়ির কার্বন কর দেওয়া নিয়ম রয়েছে আগে থেকেই তবে এটা বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। তাই বেশিরভাগ গাড়ি ব্যবহারকারী এই বিষয়ে অবগত না, মূলত তাদের জন্যই এই আর্টিকেল উপস্থাপন করেছি আমরা। তো চলুন জেনে নেই গাড়ির কার্বন ট্যাক্স সম্পর্কে।

কার্বন কর কি?

কার্বন কর হল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে নির্গত কার্বনের উপর ধার্যকৃত কর। কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদনের জন্য তথা পরিবেশ দূষিত করার জন্য জ্বালানি ব্যবহারকারীকে যে কর দিতে হয় প্রথাগতভাবে তাই কার্বন কর হিসেবে গণ্য কর হয়। সাধারন ভাষায় বললে পেট্রোল, ডিজেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ প্রায় সকল জীবাশ্ম জ্বালানিতেই কম কিংবা বেশি কার্বন রয়েছে। এসব পদার্থ পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করতে গেলে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। অন্যদিকে এই কার্বন ডাই অক্সাইড তাপমাত্রা বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশে গাড়ির জন্য কার্বন কর কেন প্রয়োজন?

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, যা পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। গাড়ির ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে, কার্বন কর প্রবর্তন করে এই দূষণ কমানো অত্যন্ত জরুরি।

গাড়ির কার্বন করের রেট কতো?

বাংলাদেশে গাড়ির জন্য কার্বন কর সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাটেগরির গাড়ির জন্য আলাদা কর নির্ধারণ করা হয়েছে যা পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে কার্যকরী হবে। যেসব ব্যক্তিরা দেড় হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির মালিক, তাদের জন্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একই ইঞ্জিন ক্ষমতার দ্বিতীয় এবং পরবর্তী প্রতিটি গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এটি মূলত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এবং কার্বন নির্গমন কমানোর উদ্দেশ্যে আরোপিত হয়েছে।

দেড় হাজার সিসি থেকে দুই হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ আরও বেশি হবে। এই ক্যাটেগরির প্রতিটি গাড়ির জন্য কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এটি মূলত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে এবং কম কার্বন নির্গমনকারী যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কার্যকর হবে।

দুই হাজার সিসি থেকে আড়াই হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির জন্য করের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে। এই ধরনের গাড়ির জন্য এখন কর দিতে হবে ৭৫ হাজার টাকা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার উচ্চ কার্বন নির্গমনকারী যানবাহনের ব্যবহার কমাতে চাইছে।

তিন হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে করের পরিমাণ আরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ক্যাটেগরির প্রতিটি গাড়ির জন্য ২ লাখ টাকা কর আরোপ করা হয়েছে। আর যারা সাড়ে তিন হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির মালিক, তাদের জন্য করের পরিমাণ আরও বেশি। এই ক্যাটেগরির প্রতিটি গাড়ির জন্য কর নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

কার্বন কর থেকে বাঁচার উপায় কি হতে পারে?

গাড়িতে কার্বন কর দেওয়া থেকে বাঁচার জন্য কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে যা আপনাকে অর্থ সাশ্রয় করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে সহায়তা করবে। নিচে বিস্তারিতভাবে কিছু উপায় তুলে ধরা হলো:

১. ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহার

ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহার করলে কার্বন নির্গমন কম হয়, ফলে এই ধরনের গাড়ির ওপর কম কর আরোপিত হয় বা কোনো কর আরোপিত হয় না। ইলেকট্রিক গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ব্যাটারিতে চালিত হওয়ায় এটি কোনো প্রকার জ্বালানি খরচ করে না, যা পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। হাইব্রিড গাড়ি যেগুলো দুই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে (ব্যাটারি এবং জ্বালানি), সেগুলোও জ্বালানি খরচ এবং নির্গমন কমাতে সহায়তা করে।

২. ছোট ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার

ছোট ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ওপর করের হার কম হয়। দেড় হাজার সিসির নিচে ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার করলে করের পরিমাণ কম হবে। এই ধরনের গাড়িগুলো সাধারণত কম জ্বালানি খরচ করে এবং কম কার্বন নির্গমন করে, যা পরিবেশবান্ধব।

৩. বিকল্প যানবাহন ব্যবহার

সাইকেল বা ই-বাইক ব্যবহার করলে কোনো কার্বন নির্গমন হয় না এবং করও দিতে হয় না। এটি স্বাস্থ্যকরও বটে। শহরের ভিতরে ছোট দূরত্বের জন্য সাইকেল ব্যবহার করা গেলে জ্বালানি খরচ কমে এবং শরীরের জন্য উপকারী হয়।

৪. স্বল্প সিসির গাড়ির ব্যবহার

আপনি যদি গাড়ির কার্বন কর থেকে বাঁচতে চান তবে গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলেই স্বল্প মাত্রার সিসি যুক্ত গাড়ি নির্বাচন করুন। সরকার যেহেতু সিসির মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কার্বন করের হার বাড়াচ্ছে তাই প্রাথমিক অবস্থাতেই স্বল্প সিসির গাড়ি ব্যবহার করুন।

৫. সরকারী ইনসেনটিভ ও সুবিধা

বিভিন্ন দেশের সরকার ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড গাড়ির জন্য বিভিন্ন ধরনের ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশেও যদি এই সুবিধা প্রদান করে থাকে তবে তা গ্রহণ করে কম করের আওতায় আসা সম্ভব। যেমন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ইলেকট্রিক গাড়ি কিনলে ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়া যায়, যা আপনার মোট খরচ অনেকাংশ কমিয়ে দেয়।

৬. গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি

যতটুকু সম্ভব গণপরিবহন ব্যবহার করুন। ট্রেন, বাস, মেট্রো ইত্যাদি ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে যাবে এবং সামগ্রিক কার্বন নির্গমনও কমবে। এটি পরিবেশের জন্য যেমন ভালো দিক হিসেবে কাজ করবে এবং আপনাকে গাড়ির কার্বন কর থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করবে।

উপসংহার

কার্বন কর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জনসাধারণের সম্পৃক্ততার সমন্বিতভাবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রনের কৌশলের অংশ হিসাবে কাজ করছে। গাড়ি ব্যবহারে আপনার দ্বারা পরিবেশের ক্ষতি কমাতেই এই আয়োজন। আসুন বিশ্বব্যাপী এই প্রচেষ্টায় সঙ্গী হয়ে পরিবেশ উন্নয়নে পদচিহ্ন যেতে রেখে যাই।

 

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top