প্রহরী – Vehicle Tracking System (VTS) of Bangladesh

পড়তে লাগবে: 3 মিনিট

Nokia থেকে iPhone, Toyota থেকে Tesla?

সেদিন আর খুব বেশি দূরে নাই, যেদিন আমরা গাড়িতে উঠে মুখে বলব কোথায় যেতে চাই, আর গাড়ি নিজে নিজেই চলে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

Self Driving Car বানানোর টেকনোলজি নিয়ে BMW বা Mercedes-Benz  এর মত বড় বড় অটোমোবাইল কোম্পানিরা অনেকদিন ধরেই কাজ করে আসছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই যুগ পরিবর্তনকারী কাজ করে, পৃথিবী বদলানোর দিকে যেই প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রটিকে প্রতিনিয়ত সামনে নিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম Tesla Inc.

বিশাল বড় একটা লাইন হয়ে গেল। এবার একটু ছোট করে এই পোস্টের টাইটেল নিয়ে বলা যাক। অনেকের হয়ত কনফিউজিং লাগছে টাইটেল টা ।

অ্যাপল আইফোন দিয়ে স্মার্টফোন জগত তথা পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে টেসলা তাদের গাড়ি দিয়ে বদলে দেবে পৃথিবীর যাতায়াত  ব্যবস্থাকে।আইফোন এর আগে নোকিয়াই ছিল  সবচেয়ে বড় জায়ান্ট। আর বাংলাদেশ এ তো আমরা গাড়ি বলতে টয়োটাই বুঝি। সেই সূত্র ধরেই এই টাইটেলের (নোকিয়া বা টয়োটার প্রতি কোণ অসম্মান প্রকাশার্থে না) সূত্রপাত।

টাইটেল ব্যাখ্যা তো হল। এবার চলুন দেখে নেই সার্বিয়ান বিজ্ঞানী, ট্রু ইলেক্ট্রনিক জিনিয়াস নিকোলা টেসলার নামে নামকরনকৃত এই স্মার্ট ভেহিকল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিটি কিভাবে যাতায়াত ব্যবস্থাকে বদলাচ্ছে। পড়ার পর হয়ত আপনি নিজেই বিচার করতে পারবেন কথার সত্যতা-

Image Source – Car Throttle

সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত

১০০ % ইলেকট্রিক। টেসলা পৃথিবীর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র গাড়ির কোম্পানি যারা একদম স্ক্র্যাচ বা গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ইলেকট্রিক কার ডিজাইন করে।

তেল বা গ্যাস নেয়ার জন্য কোনো ঝামেলা নেই। ঘরে বসেই চার্জ।  আর পথে চার্জ দেয়ার জন্য আছে টেসলার সুপারচার্জিং স্টেশন।

১ঘন্টার চার্জে টেসলার গাড়ি প্রায় ৫০ কি. মি. যেতে পারে।

অটোনোমাস ড্রাইভিং

টেসলার অটো-পাইলট মোড এর মত সেলফ ড্রাইভিং টেকনোলজি বর্তমানে পৃথিবীর আর কোণ গাড়ির নেই । যদিও অটোনোমাস টেকনোলজির এখনো বেশ অনেকটা পথ যাওয়া বাকি, তারপরেও , পৃথিবীর রাস্তায় এখনো খুব বেশি গাড়ি নেই যেগুলো ড্রাইভার ছাড়া নিজে নিজেই লেন চেঞ্জ এবং স্পিড মেইন্টেন করতে পারে। যা Tesla 2017 মডেলের গাড়ি গুলো সম্পূর্ণ ভাবে করতে সক্ষম।

স্মার্টকন্ট্রোল

পৃথিবীতে বর্তমানে খুব কম সংখ্যক কার আছে যেগুলো রিমোটলি কন্ট্রোল করা যায়। টেসলার মালিকরা চাইলেই  তাদের গাড়ি কে সামনে বা পিছনে নিতে পারেন ‘টেসলা কি ফব’ বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে।

সুপারচার্জিং স্টেশন

বাসায় তো আপনি চার্জ দিতে পারছেন-ই, পথেও যেন আপনার কোণ সমস্যা না হয়, সেজন্য পথে পথে বসানো রয়েছে টেসলার সুপারচার্জার স্টেশন। যেখানে আপনি ফ্রিতে (১০০০মাইল পর্যন্ত ) আপনার গাড়ি রি-চার্জ করে নিতে পারবেন।

Image Source – Tesla

বর্তমানে সারা বিশ্বে ১০৪২ টি সুপারচার্জার স্টেশন রয়েছে। যার অর্ধেকের বেশিই আমেরিকাতে। সুপারচার্জিং স্টেশনে আপনি অনেক দ্রুত চার্জ দিতে পারবেন। প্রতি ৩০ মিনিটের চার্জে আপনি প্রায় ১৭০ মাইল বা ২৭০ কি.মি. যেতে পারবেন।

স্মার্ট ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেল

অন্যান্য গাড়িতে যেখানে অনেক নব, সুইচ, বাটন এমনকি জয়স্টিক থাকে, সেখানে এই সব কিছুর ফাংশনালিটির জন্য টেসলার আছে সবচেয়ে বড় গাড়ির টাচ স্ক্রিনগুলির একটা। ১৭  ইঞ্চি ডিসপ্লের এই টাচস্ক্রিনেই পুরো গাড়ির কন্ট্রোল এবং অন্যান্য ইনফরমেশন।

বায়োওয়েপেন ডিফেন্স মোড

টেসলায় রয়েছে বায়োওয়েপেন ডিফেন্স মোড । যার মাধ্যেম আপনি গাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া জাতীয় জীবানুর সংক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

স্পিড

টেসলার Model S P85D এর গাড়িটা সর্বোচ্চ্য ২৫০ কিমি/ঘন্টা স্পিডে যেতে পারে। আর ইন্সেইন মোডে এটা ৩.১ সেকেন্ডে ০ থেকে ৯৭ কিমি/ঘণ্টা স্পিড তুলতে পারে, যেটা আসলেই ইন্সেইন, মানে ভয়ানক।

তেল চালিত পৃথিবীর অনেক দামী স্পোর্টস কারের ও এই লেভেলের এক্সেলারেশন নেই।

Image Source – Tesla

সফটওয়্যার আপডেট

টেসলার সফটওয়্যার ওয়াইফাই দিয়েই আপডেট করা যায়। যেখানে অন্যান্য স্মার্ট কার সিস্টেম আপডেটের জন্য নিয়ে যেতে হয় ডিলারের কাছে।

গিগা-ফ্যাক্টরি

গিগা-ফ্যাক্টরি হচ্ছে টেসলার ব্যাটারি বানানোর কারখানা। ‘GigaFactory – 1’ পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম (কাজ চলমান) বিল্ডিং । Elon Musk এর মতে ১০০টি গিগা-ফ্যাক্টরি দিয়ে পুরো পৃথিবীর পাওয়ার সাপ্লাই করা যাবে ।

Image Source – Tesla

টেসলার বর্তমানে ৩টি মডেল রয়েছে। মডেল S, মডেল X এবং মডেল 3

দুঃখের কথা হচ্ছে বাংলাদেশে থেকে এখনো টেসলা কেনা যায়না, আর যদি যেতও একজন সাধারণ বাঙ্গালীর বোধহয় কেনার ক্ষমতা হতনা । কারণ বর্তমানে  টেসলার একটি গাড়ি কিনতে আপনাকে কমপক্ষে ১লক্ষ ইউএস ডলার বা প্রায় ৮৫ লাখ টাকা খরচ করতে হবে।

তবে সুখের কথা হচ্ছে Tesla CEO, Elon Musk নিজেই বলেছেন, টেসলার উদ্দেশ্য দামী স্পোর্টস কার বানানো না, বরং সাধারণ জনগণের ব্যবহারযোগ্য সেলফ ড্রাইভিং ইলেকট্রিক কার তৈরি করা।

সেই দিন খুব দ্রুত চলে আসুক নিজেই নিজেই … 🙂

টেসলা গাড়ির ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা দেখতে এই ইউটিউব ভিডিও টি দেখতে পারেন

https://www.youtube.com/watch?v=tP7VdxVY6UQ&t=500s

এছাড়া আরও জানতে-

টেসলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

https://www.tesla.com/

টেসলা উইকি

https://en.wikipedia.org/wiki/Tesla,_Inc.

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top