প্রহরী – Vehicle Tracking System (VTS) of Bangladesh

গাড়ির ইঞ্জিনের সুরক্ষায় লুব অয়েল
পড়তে লাগবে: 4 মিনিট

গাড়ির ইঞ্জিনের সুরক্ষায় লুব অয়েল

লুব অয়েল বা লুব্রিকেন্ট হলো একপ্রকার পিচ্ছিল লিকুইড। যা কোন চালনশীল বস্তুর ঘর্ষণ কম করতে, শব্দ, তাপ কমাতে এবং এফিসেন্সি বাড়াতে কাজ করে। এই ব্লগ পোস্টে, আমরা লুব্রিকেটিং অয়েল নিয়ে অজানা বিষয়গুলো আলোচনা করব। এর গুরুত্ব, প্রকারভেদ, নির্বাচনের মানদণ্ড এবং ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উপায় নিয়ে । আপনি একজন নিয়মিত গাড়ি ব্যবহাকারী কিংবা বিভিন্ন অয়েল সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে থাকেন তবে ইঞ্জিন সুরক্ষায় লুব অয়েল ব্লগটি আপনাকে মূল্যবান তথ্য প্রদান করবে।

লুব অয়েল কি?

এটি একটি বিশেষ ধরনের তৈলাক্ত জাতীয় পদার্থ যা বিভিন্ন মেশিন এবং যান্ত্রিক সিস্টেমে চলমান অংশগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ এবং ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ইঞ্জিন, শিল্প সরঞ্জাম, যানবাহন এবং অন্যান্য যান্ত্রিক ডিভাইসগুলোর সঠিক কার্যকারিতা এবং দীর্ঘায়ু বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে কাজ করে।

কেন লুব অয়েল ইঞ্জিন ব্যবহার করবেন?

প্রশ্ন যখন গাড়ির নিরাপত্তার তখন অনেক ধরনের অয়েলের মধ্যে লুব অয়েলের নাম প্রথম সারিতে চলে আসে। একবার ভাবুন, গাড়ি চালাচ্ছেন কিন্তু তেলের ব্যাপারে আপনি যত্নশীল না, পরিণতি কি হবে আপনার প্রিয় গাড়ির! হোক মানুষ কিংবা গাড়ি প্রশ্ন যখন নিরাপত্তার তখন সমস্যা সমাধান করতে হয় শুরু থেকে। লুব অয়েল হল আপনার গাড়ির সেই শুরু সমাধান, যে গাড়ির লম্বা সময় পর্যন্ত খেয়াল রাখবে। আরও বেশ কিছু কারণ আছে তা নিম্নরুপঃ

১। অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ হ্রাসঃ

সাধারণ সব তেল ঘর্ষণ কমানোর কাজে ব্যবহার করে না। লুব অয়েল এই কাজের জন্য সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়। এটি ইঞ্জিনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পার্টস এবং উপাদান নিয়ে এমন কাজে করে যাতে করে ইঞ্জিনের প্রতিটি উপাদান পৃথকভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়। অটোমোবাইলে যেসব পার্টস ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা অনেক ছোট ছোট এবং জটিল প্রকৃতির হয়ে থাকে, এসব খুব দ্রুত আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ বা আটকে যাওয়ার প্রবণতা ও থাকে। লুব অয়েল এই ধরনের সমস্যা থেকে গাড়িকে ঝুঁকি মুক্ত করে থাকে।

২। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ

ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা গাড়ি ব্যবহারকারীদের কাছে নতুন নয়। বিভিন্ন সময় গাড়ির একচেটিয়া চলাচল কিংবা অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক জটিলতার কারণেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। কিংবা গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরের উপাদানের সংঘর্ষের জন্যেও মাত্রাতিরিক্ত তাপ বেড়ে যায়। লুব অয়েল এই তাপমাত্রাকে নিম্ন স্তরে নিয়ে আসে। ঘর্ষণ কিংবা অন্য কোন কারণে হয়ে থাকা তাপ সমূহকে লুব অয়েল শোষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩। ইঞ্জিনের ক্ষয় রোধঃ

লুব্রিকেটিং অয়েল বা লুব অয়েল সাধারণত অ্যাডিটিভ বা পিচ্ছিল ধরনের হয়ে থাকে যা ধাতব পদার্থের পৃষ্ঠকে আর্দ্রতা বা অন্যান্য দূষিত পদার্থ দ্বারা সৃষ্ট ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি প্রথমত একটি বাধার স্তর তৈরি করে যা পানি এবং ক্ষয়কারী পদার্থকে ধাতুর সরাসরি সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়,ফলে বিভিন্ন মরিচা এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বহু অংশে হ্রাস।

৪। দূষিত পদার্থ অপসারণঃ

লুব্রিকেটিং অয়েল বিভিন্ন ময়লা,কিংবা ময়লা জাতীয় ধ্বংসাবশেষ যা ইঞ্জিন সিস্টেমে অনাকাংখিতভাবে ঢুকে যেতে পারে এমন সব দূষক পদার্থ পরিচ্ছন্নতার এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। এটি অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলোকে পরিষ্কার রাখে এবং ক্ষতিকারক কণা জমতে বাধা দেয়, যা ঘর্ষণ এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ময়লা ধুয়ে অয়েলের সাথে এসে অয়েল সামে জমা হয়। অয়েল সামে ক্লিনার থাকার কারণে এই ময়লা আর ইঞ্জিনে যেতে পারে না।

৫। সিলিং এবং লিক প্রতিরোধঃ

কিছু অ্যাপ্লিকেশনে, যেমন ইঞ্জিনে, লুব অয়েল বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সিল্যান্ট হিসাবেও কাজ করে। এটি ইঞ্জিনে একটি আঁটসাঁট সীলমোহর তৈরি করে, লিক প্রতিরোধ করতে এবং ইঞ্জিনের সঠিক অপারেশন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

৬। কুলিং হিসেবে কাজঃ

লুব্রিকেটিং অয়েল নির্দিষ্ট ইঞ্জিনের উপাদান যেমন পিস্টন এবং বিয়ারিং থেকে তাপ অপসারণ করতে সাহায্য করে, ফলে ইঞ্জিন শীতল প্রক্রিয়ার সাহায্যে নির্দিষ্ট নিরাপদ তাপমাত্রায় থাকে। এতে তাপ অয়েল কুলারের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে অয়েল সামে জমা হয়।

লুব অয়েল কিভাবে কাজ করে?

প্রথমে ইঞ্জিনের সাম্প হতে লুব অয়েলকে ট্রান্সফার পাম্প আনা হয়। এরপর নির্দিষ্ট প্রেসারে ঠান্ডা করার জন্য লুব অয়েল কুলারে পাঠায় হয়। অয়েল কুলার, জ্যাকেট ওয়াটার দ্বারা লুব অয়েলকে ঠান্ডা করা হয়।তারপর এই লুব অয়েল, কুলার থেকে অয়েল ফিল্টারে প্রবেশ করে।

How does lube oil work

এই ফিল্টারের মাধ্যমে অয়েলের মিশ্রিত বিভিন্ন ধাতব পদার্থ, ময়লা ও অন্যান্য উপাদান কে ফিল্টারিং করে বিশুদ্ধ লুব অয়েল প্রেরন করা হয়। ইঞ্জিনের বিভিন্ন মুভিং পার্টস বা চলমান বা ঘূর্ণায়মান অংশতে কাজ করে থাকে। যেমন: ক্র্যাংক শাফট, মেইন ও রড বিয়ারিং, ক্যামশ্যাফট, সিলিন্ডার লাইনার ওয়াল, টার্বোচার্জার ইত্যাদি।

লুব অয়েল কত প্রকার?

অবস্থান কিংবা প্রকৃতিভেদে বিভিন্ন লুব অয়েল বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। ব্যবহারের প্রকৃতি বিবেচনায় লুব অয়েলের তিন অবস্থায় ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমনঃ

১। তরল লুব অয়েলঃ ইঞ্জিনের বিভিন্ন চলমান অংশের লুবিক্যাটিং কাজে তরল লুব অয়েল ব্যবহৃত হয়। মোটরযানের ট্রান্সমিশন গিয়ার বক্স এবং পিছনের এক্সেল পদ্ধতিতে এ লুব অয়েল ব্যবহৃত হয়। সচরাচর ট্রান্সমিশন গিয়ার বরে এস.এ.ই-৩০ এবং এস.এ. ই-৪০ মানের লুব অয়েল এবং পিছনের এক্সেলে বিশেষ অয়েল ব্যবহৃত হয়।

২। আধা তরল লুব অয়েলঃ এই লুব অয়েল-এর আওতায় গ্রিজ চেসিস কাঠামোর সাথে সংযুক্ত যন্ত্রাংশে লুব্রিক্যাটিং কাজে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন অনুপাতের খনিজ তেল এবং সাবানের সমন্বয়ে গ্রিজ উৎপন্ন হয়।

৩। কঠিন লুব অয়েলঃ সাধারণত পাউডার জাতীয় লুব্রিক্যান্টকে কঠিন লুব্রিক্যান্ট বলে। গ্রাফাইট, মলিবডিনাম ও মাইকা কঠিন লুবিক্যান্ট হিসেবে পরিচিত। এই লুব্রিক্যান্ট বিয়ারিং ও জার্নালের মধ্যে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় ও ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশকে পিচ্ছিলভাবে চলতে সহায়তা করে। গ্রাফাইট, মলিবডিনাম অথবা মাইকাকে খনিজ তেলের সাথে মিশিয়ে এ লুব্রিক্যান্ট প্রস্তুত করা হয়।

অতি প্রচলিত কঠিন লুব্রিক্যান্ট বলতে গ্রাফাইটকেই বোঝায়। এর সাথে নির্দিষ্ট তেল ও খনিজ তেল মিশিয়ে কঠিন লুব্রিক্যান্ট প্রস্তুত করা হয়। তবে গ্রাফাইটের সাথে শুধু তেল মিশিয়ে যে লুব অয়েল তৈরি করা হয় সেটি বিভিন্ন ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশের বহির্দেশীয় লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রাফাইট গ্রিজ এক প্রকার কঠিন লুব্রিক্যান্ট । এই লুব্রিক্যান্টের এস.এ.ই-১৫০ থেকে এস.এ.ই-৩০০ মানের হয়। এটি মোটরযানের স্টিয়ারিং ও সাসপেনশন পদ্ধতির বিয়ারিং এর লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

লুব অয়েলের বিভিন্ন ব্যবহারের ক্ষেত্র সমূহঃ

১। অটোমোবাইল শিল্পেঃ অটোমোবাইল ইঞ্জিনগুলোকে তৈলাক্ত করার জন্য লুব অয়েল অপরিহার্য। এটি পিস্টন, ক্যামশ্যাফ্ট, ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট এবং বিয়ারিংয়ের মতো চলমান অংশগুলোর ঘর্ষণ এবং তাপ কমাতে সাহায্য করে। সঠিক তেলের ব্যবহার ইঞ্জিন অপারেশনের কাজ পুরোপুরি নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি বাড়ায়। যানবাহনের ডিফারেনশিয়াল গিয়ারের ঘর্ষণ ও তাপ কমাতে লুব তেল ব্যবহার করা হয়। এটি চাকার সঠিক বিদ্যুৎ বিতরণ এবং গিয়ারকে অতিরিক্ত ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে।

২। শিল্প যন্ত্রপাতিঃ লুব অয়েল প্রায়ই মেটালওয়ার্কিং যেমন- মেশিনিং, ড্রিলিং এবং কাটিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি ঘর্ষণ দ্বারা উৎপন্ন তাপ কমাতে সাহায্য করে। সরঞ্জামের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি কম্প্রেসার উপাদানসমূহকে শীতল রাখে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মেশিনের পাওয়ার ট্রান্সমিশনের জন্য হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যবহার করে। লুব অয়েল হাইড্রোলিক সিস্টেমকে তৈলাক্তকরণ, বিভিন্ন উপাদান সিল করা এবং দক্ষতার সাথে শক্তি ট্রান্সফার করতে ব্যবহৃত হয়।

৩। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংঃ লুব অয়েল মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে প্রচুর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সামুদ্রিক যেমন জাহাজের ইঞ্জিনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অংশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং গতি নিয়ন্ত্রয়ণে লুব অয়েল ব্যবহার করা হয়। এসব ইঞ্জিন আকারে বৃহৎ হয় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ময়লা জমার প্রবণতা থাকে। লুব অয়েল ময়লাকে ইঞ্জিন পর্যন্ত যেতে বাধা দেয় ফিল্টার আকারে কাজ করে।

শখের গাড়ির সকল তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে এবং গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি ভেহিক্যাল ট্র্যাকার সার্ভিস (VTS) ডিভাইস যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে পাই ল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রহরী – ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমে রয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে ইঞ্জিন লক/আনলক করার সুবিধা, গাড়ির লাইভ ট্র্যাকিং আপডেট দেখা, এবং ট্রাভেল হিস্টোরি চেক করা সহ আরও অনেক সুবিধা বিস্তারিত জানতে দেখুন প্রহরী প্যাকেজ সমূহ।

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top