গাড়ির চাকা পুরাতন হলে আপনার বিপদ কত খানি!

আপনার গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্টস হচ্ছে চাকা। মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকে চাকা আবিষ্কার ও চাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন উপাদান- টেক্সটাইল, রাবার, স্টীল ইত্যাদি রকম উপাদানের সমন্বয়ে গাড়ির চাকা তৈরি হয়। গাড়ির চাকা ব্যবহারের ফলে ক্ষয় হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে যায়। আর যত আপনার গাড়ির চাকা ব্যবহারের ফলে পুরাতন আর জরাজীর্ণ হয় ততো আপনার জন্য বিপদজনক হয়ে ওঠে। গাড়ির বেশিরভাগ দূর্ঘটনা ঘটে ত্রুটিপূর্ণ চাকা ও চাকা পুরাতন হওয়ার কারণে।

কিভাবে বুঝবেন আপনার গাড়ির চাকা কত পুরানো

গাড়ির চাকায় কিছু অক্ষর বা নম্বর থাকে যেটা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন চাকা কতদিন আগে তৈরি করা হয়েছে। যদি চাকার গায়ে ১৮ লেখা থাকে এরপর ০০ থাকে তাহলে বুঝতে হবে চাকাটি ২০০০ সালের ১৮ সপ্তাহ অর্থাৎ মে মাসে তৈরি করা হয়েছে। আর যদি ২০০০ সালের আগে চাকা তৈরি করা হয় তাহলে বের করতে একটু সমস্যা হয়। চাকার গায়ে শেষের দিকে থাকা নম্বর তিনটির শেষের নম্বর বছর আর মাস নির্দেশ করে। যেমন- যদি কোন চাকার গায়ে লেখা থাকে DOT XYZ WT1 188 , তাহলে বুঝবেন ১৮ সপ্তাহ নির্দেশ করে আর পরের ৮ বছর নির্দেশ করে। অর্থাৎ, চাকাটি সেই দশকের ৮ম তম বছর এবং ১৮ তম মাসে তৈরি হয়েছে। এছাড়া ত্রিভূজাকৃতি জাতীয় কোন চিহ্ন থাকলে বুঝতে হবে চাকাটি ৯০ দশকের তৈরি। হিসাবে এরকম ২০/৩০ বছর পুরনো চাকা ব্যবহার করা উচিৎ না। একটি চাকা সর্বোচ্চ ১০ বছর ব্যবহার করা ভালো। জেনে নিলাম কিভাবে খুব সহজেই টায়ারের বয়স বের করা যায়। এবার জানব চাকা পুরাতন হলে, তা কতটা বিপদজনক।

চাকা পুরাতন হলে কতটা বিপদজনক হয়ে ওঠে?

একটি চাকার উপর ভর করে আপনার গাড়ি চলে। গাড়ির পার্টস , যাত্রী, মালামাল ইত্যাদি সবকিছুর ভার থাকে চাকার উপর। আর এই চাকার ক্ষয়ের কারনে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ সব দূর্ঘটনা এমনকি জীবন সংশয়ও । আসুন দেখে নেই চাকা পুরাতন হলে কতটুকু বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে-

বিস্ফোরণের সম্ভাবনা

নতুন চাকার তুলনায় চাকা পুরাতন হলে বিষ্ফোরণ হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। কারন পুরানো চাকা ভেতরে বাতাস ধরে রাখতে পারে না। চাকা বেশি পুরানো হয়ে গেলে চাকার দিকে নিয়মিত নজর ‌দিয়ে রাখতে হয়। টায়ার সম্পর্কিত একটি জনপ্রিয় মিথ হচ্ছে , অতিরিক্ত প্রেশারে টায়ার ফেটে যায়। অনেক গাড়ির চালক বিভিন্ন ঋতুতে টায়ারের প্রেশার বিভিন্ন রকম করে রাখতে পছন্দ করেন। তেমন গরমের সময় কম প্রেশার আর শীতের সময় বেশি প্রেশার দিয়ে রাখেন। সত্যি বলতে টায়ারে এরকম ভাবে প্রেশার না রেখে সবসময় একই রকম প্রেশারে টায়ার মেইনটেইন করা উচিৎ।

পাংচার হওয়া

টায়ার যখন পুরানো হয়ে যায় তখন একেবারে সরু হয়ে যায়। আর রাস্তায় পড়ে থাকা যেকোন সূক্ষ্ম জিনিস যেমন- ভাঙ্গা গ্লাসের টুকরো বা কোন পিন দিয়ে সহজেই ছিদ্র হয়ে যায়। এছাড়া পুরানো টায়ার থেকে বাতাস / হাওয়া সহজেই বের হয়ে যায় তার ফলে টায়ার পাংচার বেশি হয়। আর বড় সড়কে এরকম ভাবে টায়ার পাংচার হওয়া খুবই বিপজ্জনক।

পুরোনো টায়ার পাংচার হবার সম্ভাবনা বেশি।

দৃঢ়তা কমে যাওয়া

নতুন টায়ারের গায়ে যে কাঁটা কাঁটা রোমশ অংশ দেখা যায় সেগুলো চাকা পুরানো হবার সাথে সাথে মিশে যায়। আর এই রোমশ অংশুলো টায়ারকে রাস্তার সাথে ধরে রাখতে সাহায্য করে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা গাড়ির দৃঢ়তার জন্য পুরানো চাকার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। পুরানো চাকার দৃঢ়তা কমে গেলে চাকাটি হয়ে উঠতে পারে জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ।

ব্রেকিং সিস্টেম দূর্বল করে দেয়া

যেকোন গাড়ি সাধারণত অনেক ওজনসম্পন্ন আর ভারী হয়ে থাকে। এবং গাড়ির সম্পূর্ণ ওজন চাকার উপর থাকে। টায়ারের যে অংশ রাস্তার উপরিভাগে থাকে সেটাকে বলে বিস্তৃত স্ট্র্যাপ। আর যখন চাকা পুরানো হয়ে যায় তখন স্ট্র্যাপটি বিস্তৃত থাকে না। চাকা পুরানো হয়ে গেলে স্ট্র্যাপটির ঘনত্ব কমে ব্রেকিং সিস্টেমও দূর্বল করে দেয়। তখনই ঘটে যায় বিপদ।

রাস্তায় জমে থাকা পানির সমতা রাখতে পারে না

জরাজীর্ণ বা ক্ষয়ে যাওয়া পুরানো টায়ার রাস্তায় খুব একটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। আর পুরানো টায়ার বর্ষার সময়ে রাস্তায় জমে থাকা পানি সরিয়ে চলতে পারে না। বর্ষার সময়ে চাকা পুরাতন হলে , অনেকে সমস্যায় পড়েন। আর এসব কারণে ঘটে যেতে পারে সমূহ বিপদ।

গাড়ির চাকা নিয়ে অযথা চিন্তা না করে নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করে রাখবেন।

  • টায়ারের প্রেশা্র সবসময় একই রকম রাখবেন।
  • চাকা লিক, প্রেশার চেক করে তবেই গাড়ি নিয়ে বের হবেন।
  • গাড়ির ভেতর এক্সট্রা চাকা সবসময় রাখবেন।
  • চাকা বদলানোর সরন্জাম সবসময় গাড়িতেই রাখবেন।
  • গাড়ির সুরক্ষায় গাড়ি চালানোর সময় যত্ন করে, ভালো ভাবে চালাবেন, ভাঙ্গা চোরা বা খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালাবেন না।
  • গাড়ির সমস্যা ছোট থাকতে সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করবেন।
  • ছয়মাস অন্তর গাড়ি সার্ভিস করিয়ে নেবেন। না পারলে নিজেই চেক করে নেবেন গাড়ির সব পার্টস।

গাড়ি ‌রাখুন নিরাপদে আর আপনি নিজেও থাকুন নিশ্চিন্তে। গাড়িতে আজই ইনস্টল করুন প্রহরী। ২০ টির বেশি ফিচার নিয়ে প্রহরী ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং ডিভাইস আপনাকে দেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

মন্তব্যসমূহ


footer-svg