কোক দিয়ে গাড়ি পরিষ্কার ও কিছু মজার টিপস

পানীয় হিসেবে কোকা কোলা  বিশ্ববিখ্যাত। ১৮৯২ সালে ২৯ শে জানুয়ারি কোকা কোলা কোম্পানি ইউনাইটেড ষ্টেটের আটলান্টায়  তাদের যাত্রা শুরু করে । কোম্পানি উৎপাদকের নাম জন স্টিথ পাম্বারটন, তিনি একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন। বলা বাহুল্য কোমল পানীয় হিসেবে কোকা কোলার জুড়ি নেই।  কোকা কোলার পর আরো অনেক পানীয় বাজারে এসেছে আবার চলেও গিয়েছে কিন্তু কোলা কোলার জনপ্রিয়তা সবসময় ছিল তুঙ্গে। সাধারণত কোকা কোলা খাবার হজম ও হজমশক্তি বাড়াতে পান করা হয় । কিন্তু ১২৮ বছর ধরে চলে আসা তুমুল জনপ্রিয় এই কোমল পানীয় দিয়ে মানুষ অনেক ধরনের কাজও করে থাকেন । কেউ গাছে ঢালে গাছের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য, কেউবা ঘরের গ্লাস পরিষ্কার করে , কেউ আবার কাপড় ধোয় কাপড় থেকে দাগ তোলার জন্য। তবে সবথেকে মজার টিপস হচ্ছে গাড়ি পরিষ্কার করতে  কোকা কোলার ব্যবহার।  আজকে জানব কীভাবে কোকা কোলার মাধ্যমে জমে থাকা ময়লা  ও গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন –

গৃহস্থালি বিভিন্ন কাজে কোকের ব্যাবহার

গাড়ি পরিষ্কার ; জং ধরা ঠিক করতে

কোকা কোলার মাধ্যমে গাড়ির জং ধরা সারতে যে উপাদানগুলো লাগবে সেগুলো হলো-

  • এক ক্যান কোকা কোলা
  • অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
  • স্পঞ্জ
  • হালকা গরম পানি
  • মাইক্রোফাইবার টাওয়েল বা ব্রাশ
  • সাবান বা ডিশ ওয়াশ

কোকা কোলা একটি কার্বোনেটেড পানীয়। ধাতুর তৈরি যেকোন যন্ত্রাংশ থেকে জং ধরা তুলতে কোকা কোলা খুব কার্যকরী। এক্ষেত্রে ডায়েট কোকা কোলা ততোটা কার্যকরী প্রমাণ নাও হতে পারে। কোকা কোলা ঢেলে গাড়ি পরিষ্কার করার সময় স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে নিতে পারেন অথবা ব্রাশ দিয়ে ঘসতে পারেন। তবে এক্সপার্টের মতে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মুড়ে নিলে জং ধরা সারতে বেশী সহজ হয় । গাড়ির  যে অংশে জং ধরবে সেখানে ঘসার কাজে সাবান, কুসুম গরম পানি এবং মাইক্রোফাইবার টাওয়েল ব্যবহার করবেন।

কোক ঢেলে গাড়ির পার্টস পরিষ্কার

 

  • এক টুকরা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল নেবেন, এরপর কয়েকটি ভাঁজ করে নেবেন। বেশী ভাজের ফলে অ্যালুমিনিয়াম কয়েক অংশ পুরু হবে।
  • জং ধরা অংশে কোকা কোলা ঢেলে ফয়েল পেপার মুড়িয়ে নেবেন।
  • যখন জং একটু আলগা হয়ে উঠে আসতে থাকবে তখন স্পঞ্জ দিয়ে জায়গাটা ঘষে নেবেন।
  • একবারে ভালো ফল না পাওয়া গেলে একই পদ্ধতি পুনরায় করুন।

 গাড়ির ব্যাটারি ও ব্যাটারির আশেপাশে পরিষ্কারে

গাড়ির ব্যাটারির আশেপাশের জায়গায় অনেক সময় জং ধরতে ধরতে ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। তখন গাড়ি স্টার্ট নিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোকা কোলার মাধ্যমে খুব সহজেই এসব জং সারানো যায়। প্রথমে কোকা কোলার ক্যান সাবধানে খুলে জং ধরা অংশে একটু একটু করে ঢেলে দিন। এরপর কয়েক মিনিট সময় রেখে দিন । টুথব্রাশ দিয়ে জং ধরা অংশ ঘষে নিন, হাত দিয়েও তুলে নিতে পারেন জং ধরা ময়লা।  সাথে হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। খুবই ট্রিকি একটি টিপস গাড়ির ব্যাটারির জং ধরা সারানোর।

কোক দিয়ে গাড়ির ব্যাটারি পরিষ্কার

গ্যারেজে পড়া তেলের দাগ তুলতে

অনেক সময় গাড়ি থেকে তেল লিক হয়ে যায়। রাস্তায় বা গ্যারেজে আমরা প্রায়ই তেলের ছিটা ফোঁটা পড়ে থাকতে দেখি। এরকম তেলের দাগ তুলতে কোকা কোলার জুড়ি নেই। কোকা কোলা দুই,  তিন ক্যান তেলের জায়গায় ঢেলে দিন । কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, অথবা সারারাত ঢেলে রাখুন। এরপর ব্রাশ বা কাপড় দিয়ে জায়গাটি মুছে নিন। কোকা কোলা দিয়েই যে শুধু তেলের দাগ তুলবেন এমনটা নয় , ডিশ সোপ, কিটি লিটার বা অন্য স্টেইন রিমুভার দিয়েও তেলের দাগ ওঠাতে পারেন।

নোংরা উইন্ড শিল্ড পরিষ্কারে

কোক ঢেলে আপনি আপনার নোংরা উইন্ড শিল্ড পরিষ্কার করে নিতে পারবেন। আর উইন্ড শিল্ডের ভেতর কোন পোকা ঢুকে থাকলে সেগুলো খুব সহজেই মেরে ফেলতে পারেন। ধীরে ধীরে উইন্ড শিল্ডের ভেতর কোক ঢেলে কয়েক মিনিট অপেক্ষাকরুন। এরপর পাতলা কাপড় বা ভেজা টাওয়েল দিয়ে মুছে নিন। তবে খুব বেশী সময় ধরে কোক ঢেলে রাখবেন না এতে করে গাড়ির ডেন্ট পেইন্টে সমস্যা হতে পারে। কোক খুব সহজেই গাড়ির উইন্ড শিল্ড বা বাম্পারে জমে থাকা ময়লা বা পোকা মাকড় পরিষ্কার করে নেয়, তবু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবধানে কোকের ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে।

উইন্ড শিল্ড পরিষ্কারে কোকের ব্যাবহার

জং ধরা কোন বোল্ট

অনেক সময় দেখা যায় গাড়িতে বোল্ট জং ধরে আটকে যায়। কোন ভাবেই সে জং খোলা সম্ভব হয়না। কোকা কোলায় বিদ্যমান ফস্ফরিক এসিড গাড়ির  আটকে যাওয়া বোল্ট  খুব সহজেই খুলতে সাহায্য করে। এক ক্যান কোক কোন বাটিতে ঢেলে তার ভেতর যেকোন জং ধরা বোল্ট কিছু সময় ভিজিয়ে রেখে এরপর চেষ্টা করলে বোল্ট খুব দ্রুতই খুলে যায়। শুধু গাড়ির না যেকোন ধরনের জং সারতে কোকের ব্যবহার করতে পারেন।  যেমন – মেয়েদের গহনা, ছুরি বা কেঁচি এগুলোর জং।

ব্লগটি পড়তে গিয়ে মনে হয় আপনাদের  কোকের পিপাসা পেয়ে গিয়েছে। কিনে পান করে নিন এক ক্যান কোক আর  কোক দিয়ে নিজের গাড়ি পরিষ্কার করে ফেলুন। গাড়ি সম্পর্কে এমন মজার টিপস এন্ড ট্রিকস পেতে সবসময় কানেক্টটেড থাকুন প্রহরীর ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেইজে। প্রহরী হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি সর্ব প্রথম ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সার্ভিস ডিভাইস। একমাত্র প্রহরীতে আছে দেশীয় প্রযুক্তির সব উপাদান। গাড়ি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাড়িতে ইন্সটল করুন প্রহরী আর থাকুন দুশ্চিন্তামুক্ত বারো মাস।

গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

 

 

 

এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

মন্তব্যসমূহ


footer-svg