গাড়িতে ওয়াক্সিং করার ৫ টি উপকারিতা!

শখের গাড়িকে মানুষ যত্ন করে রাখতেই বেশী ভালবাসেন। অনেকে আছেন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের দাঁত ব্রাশ না করে গাড়ি ধোয়ার কাজে লেগে যান।  এটাও সত্যি যে, গাড়ি যত পরিষ্কার আর সার্ভিস করিয়ে রাখা যায় ততো গাড়ির আয়ুষ্কালও বৃদ্ধি পায়। তবে বেশীরভাগ মানুষ গাড়ির ইঞ্জিন, সাস্পেন্সন বোল্ট , ট্রান্সমিশন ইত্যাদি এগুলো ঠিক রাখাটাই বেশী জরুরী বলে মনে করেন। এটা ঠিক না, গাড়ির বাইরের দিকটাও চকচকে আর সুন্দর রাখাটা অনেক্ষেত্রে জরুরী। চকচকে রাখার জন্য কোনটা ভালো পলিশ নাকি ওয়াক্সিং এ নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ থাকতে পারে।  তবে গাড়ির বাইরে পরিষ্কার আর চকচকে রাখতে গাড়িতে ওয়াক্সিং করিয়ে নেওয়া হচ্ছে একটি স্মার্ট উপায় । ওয়াক্সিং হচ্ছে গাড়ির রংয়ের উপর করা মোমের প্রলেপ । অনেকটা প্রলেপ দেয়ার মত করে গাড়িকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে ওয়াক্স । গাড়িতে ওয়াক্সিং করে নিলে আপনি কিছু বাড়তি উপকারিতাও পেয়ে যাবেন। অনেকটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মত এক ঢিলে কয়েকটি পাখি মারা হবে। সে যাইহোক আসুন দেখে নেই,  গাড়িতে ওয়াক্সিং করার ৫ টি উপকারিতা –

বিভিন্ন স্ক্র্যাচ/দাগ থেকে গাড়িকে রক্ষা করে

গাড়িতে যেসব ওয়াক্স ব্যবহার করা হয় সেগুলো মূলত কারনুওবা ওয়াক্স , প্রাকৃতিক তেল, বিওয়াক্স , পেট্রোলিয়াম পাতনের মিশ্রণ ।  এসব উপাদান দিয়ে গাড়ির রংকে আরো শক্ত ও চকচকে করা হয় । ওয়াক্স  আপনার গাড়ির উপর ছাতার মত কাজ করে ।  গাড়ি যখন ধোয়া হয় তখন একটু অসাবধানতায় অনেক সময়  দাগ বা স্ক্র্যাচ পড়ে যায় । আর সেসব দাগ পরবর্তীতে গাড়ির রং পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। আর গাড়ির রং একটু নষ্ট হয়ে গেলে বা উঠে গেলে পুরো গাড়ির রং নতুন করে করাতে হয় যা অনেক সময়সাপেক্ষ আর ব্যয়বহুলও বটে ! ওয়াক্সিং আপনার গাড়ির উপরে পরা  স্ক্র্যাচ থেকে গাড়িকে রক্ষা করে।

কারনুওবা ওয়াক্সের কৌটা

গাড়ির উপরের রং নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায়

প্রত্যেকদিন  আপনি আপনার গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন আবহাওয়ায় ঘুরে বেড়ান। আপনার শখের গাড়িটিকে রোদে পুড়তে হয় , বৃষ্টিতে ভিজতে হয় আরো কত ঝক্কিই না পোহাতে হয় । এতে আপনার গাড়ির রংয়ের বারোটা বেজে যায় এমনকি সাধারণ একটি পাখির বিষ্ঠাও আপনার গাড়ির রংয়ের বারোটা বাজিয়ে  তেরোটা ঝুলাতে পারে। যখন রোদ, বৃষ্টি, বিষ্ঠা জাতীয় দাগগুলো গাড়ি থেকে ঘষে তোলা হয় তখনি হয় আসল সমস্যা।  এসব ব্যাপারগুলো আপনার গাড়ির রং ধীরে ধীরে নষ্ট করে। প্রথমে রং একটু ক্ষয় হয়ে যায় আর পরে গাড়ির পুরো বডির রং নষ্ট হয়ে যায়।  ওয়াক্সিং  আপনার গাড়ির উপরের রংটি নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায়।

গাড়ি ওয়াক্সিংয়ের আগে ও পরে

খরচ বাঁচাবে ওয়াক্সিং 

আপনার পুরো গাড়িটি রং করতে গেলে অবশ্যই অনেক খরচের ব্যাপার। এই জন্য গাড়ি তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গাড়িতে ওয়াক্সিং করার পরামর্শ দেন।  যখন আপনি আপনার গাড়িতে ওয়াক্সিং  করিয়ে নেবেন তখন আপনার গাড়ির রং আগের তুলনায় অনেক বেশিদিন স্থায়ী হবে। ওয়াক্সিংয়ের আরেকটি উপকারী দিক হচ্ছে ওয়াক্সিং  আপনার গাড়িকে জং ধরা থেকেও  রক্ষা করবে। কাজেই একইসাথে ঘনঘন রং করার খরচ আর জং ধরা থেকে গাড়িকে বাঁচিয়ে রাখা দুটো দিক থেকেই আপনার খরচ অনেকটাই বাঁচবে।

বর্তমানে স্প্রে দিয়েই ওয়াক্সিং করা হয়

গাড়ির বিক্রয়মূল্য বাড়ায় 

আপনি যদি কখনো আপনার  গাড়িটি কোথাও বিক্রির জন্য নিয়ে যান তাহলে তো আগে দামের কথাই চিন্তা করবেন। কিন্তু এছাড়াও আপনাকে দেখতে হবে গাড়ির মাইলেজ, গাড়ির মেন্টেনেন্সের কাগজপত্র, গাড়ির ভেতরের পার্টসের অবস্থা, গাড়ির উপরের রং ইত্যাদি। আর যদি আপনার গাড়ির উপরের রং একটু ফিকে, উঠে যাওয়া বা পুরানো মনে হয় তখন গাড়ির পুরো মূল্য কমে যেতে পারে। ব্লু বুকের একটি স্কেলে বলা হয়, গাড়ির ভেতরে ও বাহিরে দেখতে ভালো হলে তবেই গাড়ির মূল্য বৃদ্ধি পায়। একারনেই গাড়িতে ওয়াক্স  করলে গাড়ির রং ঠিক থাকে আর রাস্তায় চলার সময় ছোট ছোট দাগ থেকে গাড়িকে রক্ষা করে। যা গাড়ির বিক্রয়মূল্য বাড়ায়।

গাড়ির চকচকে রূপ দেখতে পাওয়া যায় ওয়াক্সিংয়ের পর

গাড়িকে চকচকে ও নতুন রূপ দেয় ওয়াক্সিং 

কোন তর্ক না জুড়ে চোখ বন্ধ করে বলা যায় যে,সবসময় গাড়িতে ওয়াক্স করার ফলে আপনার গাড়িতে যে ঝকঝকে ভাব থাকবে তা অন্য কোন কিছু করে গাড়িতে আনা সম্ভব না। কয়েক বছর আগেও ওয়াক্স  খুব জটিল কাজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গাড়িতে ওয়াক্স করে নেয়া খুবই সহজ কাজ।  কিছু প্রতিষ্ঠান আবার বোতলে স্প্রের মাধ্যমে ওয়াক্স করে থাকে । খুব সহজেই করা  সম্ভব এই কাজটি। শুধু গাড়ির গায়ে স্প্রে করে মাইক্রোফাইবার টাওয়েল দিয়ে মুছে নিলেই ওয়াক্সিংয়ের  কাজটি শেষ করা যাচ্ছে।  আর এই পদ্ধতিতে রং করে নিলে আপনার গাড়ির রং টেকসই হবে অনেকদিন। এবং দেখলে মনে হবে একদম নতুন গাড়ি শো রুম থেকে বের করে আনা এমন ।

ওয়াক্স স্প্রে করার পর মাইক্রোফাইবার টাওয়েল দিয়ে মুছে ফেললেই হয়ে গেল

ওয়াক্সিংয়ের  ব্যবহার আমাদের দেশে যদিও এখনো খুব বেশী দেখা যায়না । কিন্তু ওয়াক্সিং একবার করিয়ে নিলে দেখতে পারেন আপনার গাড়ির সুরক্ষার জন্য ভালো কিছু হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার গাড়ির উৎপাদনের নিয়মাবলিগুলোর সাথে মিলিয়ে সবকিছু যাচাই করে নেবেন । সুরক্ষার ব্যাপারটা যেহেতু চলেই এসেছে তাহলে নিরাপত্তার ব্যপারটাও মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে এই প্রথম প্রহরী ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সার্ভিস আপনার গাড়িকে দিচ্ছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। আপনার গাড়ির দায়িত্ব দিয়ে দেন প্রহরীকে আর নিশ্চিন্তে থাকুন সারা বছর।

গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

মন্তব্যসমূহ


footer-svg