প্রহরী জিপিএস ট্র্যাকার

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে ১০ টি টিপস মাথায় রাখা উচিত
পড়তে লাগবে: 5 মিনিট

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে ১০ টি টিপস মাথায় রাখা উচিত!

বাংলাদেশে বর্তমানে গাড়ি কেনার হার অনেক বেড়েছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেই গাড়ি কেনার চিন্তাভাবনা করে ফেলেন অনেকেই। দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে গাড়ি কেনার হার তুলনামূলক বেশি। এছাড়া কম মূল্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সহজলভ্যতা ও যানবাহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু নতুন বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনতে গেলে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন এই ভেবে যে কোন গাড়ি কিনলে ভালো হবে,বাজেটের মধ্যে ভালো ইঞ্জিনের গাড়ি কোনটি ইত্যাদি। তাই আজকে আলোচনা করবো নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে ১০ টি টিপস মাথায় রাখা উচিত তা সম্পর্কে। কারণ অনেকে কারও কাছে গাড়ি বিষয়ে কিছু জানতে সংকোচ বোধ করেন। তাই গুগলে যদি এসব বিষয় নিয়ে কোন আর্টিকেল পোস্ট করা যায় তাহলে কারও কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে জানতে  হবে না। এজন্য গাড়ি কেনার লক্ষ্য থাকলে এ ব্যাপারে অন্তত প্রাথমিক ধারণাটি যেন কেউ পেতে পারে সে বিষয়গুলো আর্টিকেলে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

১। গাড়ি কেনার কারণ ঠিক করুন

গাড়ি ক্রেতা প্রথমে ঠিক করুন কি উদ্দেশ্যে গাড়ি কিনতে চান। কারণ গাড়ি কেনার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ দৈনিক যাতায়াতের জন্য, কেউবা আবার বড় পরিবারের বেশি সদস্যদের চলাচলের জন্য,কেউবা ভাড়ায় দেওয়ার জন্য গাড়ি কিনতে চান। এরকম বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও বাজেটের গাড়ি বাজারে আছে। এজন্য গাড়ি কেনার উদ্দেশ্য ঠিক করা উচিত সবার আগে। কারণ উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট থাকলে গাড়ি পছন্দ করা সহজ হয়।

২। গাড়ি নিয়ে একটু রিসার্চ করুন

নতুন গাড়ি কেনার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা দরকার তার মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল গাড়ি নিয়ে একটু রিসার্চ করা।গাড়ি কেনার আগে আপনার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে  এমন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি খুঁজুন। যেমন  আপনি যদি একটি SUV ক্যাটাগরীর গাড়ি চান, তাহলে সেই ক্যাটাগরিতে গাড়ি তৈরি করে এমন ভালো কোম্পানির গাড়ি খুঁজতে পারেন। গাড়ি পছন্দের সময় গাড়িতে কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা জানার পাশাপাশি আপনার দরকারি কোন বৈশিষ্ট্যটি অনুপস্থিত আছে তা খেয়াল রাখবেন। এরপর প্রতিটি মডেলের গাড়ির সুবিধা-অসুবিধা, কেমন জ্বালানি লাগে, যন্ত্রাংশ সহজলভ্য কি না ইত্যাদি তথ্য জানার চেষ্টা করুন। অনলাইনে গাড়ির বিজ্ঞাপন দেখে সরেজমিনে যাচাই না করে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেবেন না। বরং সময় নিয়ে জেনে বুঝে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিন।

৩। কোন ধরনের গাড়ি প্রয়োজন তা ঠিক করুন

ব্যক্তিগত গাড়ি অনেক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। অফিসের কাজে, সন্তানকে স্কুলে আনা নেওয়ার কাজে, ব্যক্তিগত কাজে, দীর্ঘ যাত্রা বা ঘুরাফেরার কাজে, অথবা যে কোনো তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে। কোন প্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার হবে বেশি সেটার উপর নির্ভর করবে আপনার জন্য কোন গাড়িটি উপযুক্ত। যেমন দৈনিক শুধু স্কুলে আনা নেওয়া, অফিস যাওয়া আসা, আর টুকটাক ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ফিচারস, ক্যালিব্রেশন আর মাইলেজ এর প্রয়োজন হয় না। সেই অনুযায়ী খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো গাড়ি ক্রয় করা সম্ভব। কিন্তু গাড়ি যদি দৈনিক কঠিন কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে হাই ক্যালিব্রেশন, মাইলেজ ও কিছু বাড়তি ফিচারস সম্বলিত বেশি বাজেটের গাড়ির কর্মক্ষমতা বেশ ভালো হয়। এই জন্য প্রথমে কোন প্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহৃত হবে সেটি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কেমন গাড়ি কেনা উচিত, নতুন নাকি পুরাতন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন গাড়ি কিনলে ঝামেলা অনেকটা কম, কিন্তু আপনি যদি সেকেন্ড হ্যান্ড কোনো গাড়ি কেনার কথা চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে অনেক বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোন ব্র্যান্ড থেকে নেওয়া, পূর্বে কতদিন ব্যবহার হয়েছে, গাড়ির মাইলেজ কত ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

৪। বাজেট ঠিক করুন

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাজেট।কারণ গাড়ি একটি ব্যয়বহুল পন্য। এজন্য আগে থেকেই টাকার ব্যবস্থা করে রাখতে হয়।তাছাড়া বিভিন্ন মডেলের গাড়ির মূল্যও নির্ধারিত থাকেনা বলে সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট গুছিয়ে রাখতে হবে।আর্থিক সমস্যায় পড়লে লোন বা কিস্তির  মাধ্যমেও গাড়ি কেনা যায় বলে এসব ব্যাপারেও খোঁজ রাখা উচিত।

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এসব ছাড়াও আরেকটি খরচের হিসাব মাথায় রাখতে হবে।সেটা হলো গাড়ি ক্রয় পরবর্তী খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।কারণ যিনি বা যারা গাড়ি কিনতে চান তাদের সবাই ড্রাইভিং নাও জানতে পারেন।তখন এটা চালাতে ড্রাইভার লাগবে। আর ড্রাইভারের মাসিক বেতনের কথাটাও বাজেটে রাখতে হবে।তারপর লাইসেন্স খরচ,ট্যাক্স,বীমা খরচ,গাড়ির কোন ত্রুটি হলে তা সারাইয়ের খরচ, জ্বালানির খরচ,পার্কিং খরচ ইত্যাদি নানা ধরণের খরচের হিসাব করেই গাড়ি কেনা উচিত। কারণ সুবিধার জন্য গাড়ি কিনে তা যেন আবার গলার কাঁটা না হয়ে যায়।

৫। বিক্রেতা ও গাড়ির শোরুম নির্ধারণ

যদি আগের সকল ধাপ অনুসরণ করে থাকেন, এখন আপনি জানেন যে আপনি কোন ধরনের, কি গাড়ি নিতে ইচ্ছুক। তাই এখন সময় বাহ্যিক পর্যালোচনার। একটি গাড়ির একই মডেল একাধিক বিক্রেতা বিক্রয় করেন। তাই কোন বিক্রেতার পুনর্মূল্যায়ন ভালো এবং বিশ্বস্ত সেটি আগে কথাবার্তা বলে জেনে নিন। তারপর আপনার পছন্দের গাড়ি সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। এই ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে কোনো প্রচলিত অফার অথবা ডিসকাউন্ট কুপন আছে কিনা, গাড়ির বর্তমান অবস্থা এবং ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টি পলিসি।

৬। গাড়ির বৈধতা ও ওয়্যারেন্টি সম্পর্কে জানুন

গাড়ি ক্রয় করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই গাড়ির বৈধ কাগজ যাচাই করতে হবে। কেননা গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না হলে পরবর্তীতে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে আপনাকেই। একদম নতুন গাড়ি কিনলে একরকম কাগজপত্র ও বৈধতা চেক করার বিষয় থাকে আবার সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে আরেক রকম বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। যেমন সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি হলে গাড়ির পুর্বের মালিকানার কাগজপত্র ঠিক আছে কি না,ওয়্যারেন্টি কত দিনের তা যাচাই করতে হয়।কিন্তু নতুন আমদানি করা গাড়ির ক্ষেত্রে পুর্ব মালিকানা চেক করার বিষয়টি থাকেনা। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পুর্ব কোন আইনি ঝামেলা আছে কি না,কোনো ট্যাক্স বাকি আছে কি না ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করতে হয়।আর নতুন গাড়ি কোথা থেকে এসেছে, যে শোরুম বা মালিক থেকে কিনছেন তাদের সব তথ্য সত্য ও বৈধ কি না এসব বিষয় যাচাই করতে হয়।

একটি সাবলীল ও লাভজনক ওয়ারেন্টি অথবা গ্যারান্টি পলিসি ক্রেতার জন্য অনেক বড় একটি জয়। এটি ভবিষ্যতের অনেক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা থেকে আপনাকে বিমুক্ত করে। স্ট্যান্ডার্ড পলিসি গ্যারান্টি অথবা ওয়ারেন্টির জন্য মেয়াদ হচ্ছে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর। কিন্তু সাধারণত গাড়ির মূল্য ও মডেল এর ভিত্তিতে গ্যারান্টি/ওয়ারেন্টি এর সময়সীমা ভিন্ন রকম হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, গাড়ির দাম যত বেশি হয় গ্যারান্টি/ওয়ারেন্টির সময়ও বেশি হয় আর দাম যত কম গ্যারান্টি ওয়ারেন্টির সময়সীমা কম হয়। তাই বিক্রেতার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভজনক ওয়ারেন্টি পলিসিটি গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।

৭। ডিসকাউন্ট বা অফারে কেনার চেষ্টা করুন

এ টিপসটি ফলো করলে গাড়ি কেনার জন্য বিশেষ দিবস বা সময়ের অপেক্ষা করতে হবে যা উপলক্ষে গাড়ি বিক্রেতারা বিভিন্ন ডিসকাউন্ট বা অফার মূল্য দিয়ে থাকে। যেমন ঈদ,নববর্ষ,অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব,মেলা,স্বাধীনতা দিবস, ভালোবাসা দিবস প্রভৃতি।এরকম দিবসগুলোতে গাড়ির শোরুম গুলো অনেক সময় বিশেষ ডিসকাউন্ট ও ছাড় দেয়। এই সুযোগে গাড়ি কিনলে আপনার সাশ্রয় হতে পারে কিছু অর্থ।

৮। বিক্রেতা কর্তৃক প্রদত্ত সুবিধা গ্রহণ নিশ্চিত করুন

গাড়ি কিনতে গেলে বেশ কিছু গাড়ির ডিলার বা বিক্রেতা আপনাকে গাড়ি কেনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অফার করতে পারে একেবারে বিনামূল্যে। যেমন,ফ্লোর ম্যাট এবং সিট কভার,ব্যাটারি চার্জার,নাম্বার প্লেট,জ্যাক, টুলকিট ইত্যাদি।আবার অনেকে হয়ত কয়েক মাসের ইঞ্জিন মেরামতের সুবিধাসহ আরও ছোটখাটো কিন্তু দরকারি জিনিসের সার্ভিস ফ্রী দিতে পারে।এভাবে গাড়ির বিক্রেতা থেকে আপনি সর্বাধিক সুবিধা নেয়া নিশ্চিত করুন।

৯। গাড়ির টেস্ট ড্রাইভ করুন

গাড়ি কিনতে গিয়ে পছন্দসই গাড়িটিকে পরীক্ষামুলকভাবে চালাতে ভুলবেন না।নিজে না পারলে সাথে এমন একজনকে নিয়ে আসুন যিনি গাড়ি চালাতে জানেন।তাকে দিয়ে চালিয়ে টেস্ট করে নিন।টেস্ট ড্রাইভ করলে গাড়িটি কীভাবে চালাতে হয়,এর মাইলেজ কেমন, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কেমন বা কোন ত্রুটি থাকলে তা চোখে পড়বে।

১০। পেশাদার মেকানিক দ্বারা চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন

গাড়ির বাহ্যিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হলেও, তার প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা, যন্ত্রাংশ এবং ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সাধারণত মূল্যায়ন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এজন্য চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য একজন বিশ্বস্ত পেশাদার মেকানিক এর সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়। একজন মেকানিক সবকিছু ভালোমতো বুঝে আপনাকে উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করতে পারবে। মেকানিক এর কাছ থেকে সম্মতি পেলে আপনি নির্দ্বিধায় গাড়িটি ক্রয় করতে পারেন।

গাড়ি ক্রয় করা যেমন সহজলভ্য হয়েছে, তেমনি গাড়ির বাজারে দর টানাটানি, বিশ্বস্ত বিক্রেতার অভাব এবং যন্ত্রাংশের কমতি বেড়েছে সমান তালে। তাই গাড়ি ক্রয় করার সময় উপরের বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা ও মূল্যায়ন করে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা উচিত। একটি ধাপও এড়িয়ে গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি থেকে যেতে পারে যা ভবিষ্যতে গাড়ির কার্যকারিতায় অযাচিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। গাড়ির সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হলেও এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত গাড়িটি ক্রয় করা সম্ভব।

শখের গাড়ির সকল তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে এবং গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি ভেহিক্যাল ট্র্যাকার সার্ভিস (VTS) ডিভাইস যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে পাই ল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রহরী – ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমে রয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে ইঞ্জিন লক/আনলক করার সুবিধা, গাড়ির লাইভ ট্র্যাকিং আপডেট দেখা, এবং ট্রাভেল হিস্টোরি চেক করা সহ আরও অনেক সুবিধা বিস্তারিত জানতে দেখুন প্রহরী প্যাকেজ সমূহ।

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top