প্রহরী – Vehicle Tracking System (VTS) of Bangladesh

পড়তে লাগবে: 3 মিনিট

এই গরমে গাড়িতে চড়বেন আরামে (শেষ পর্ব)

ক্রমশই চারদিক গরম হয়ে উঠছে। সকালের তেজী সূর্য যখন মাথা বরাবর খাড়া হয়ে তাপ দেয় তখন যেন সবকিছু বিষিয়ে ওঠে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা নিজেরা যেমন নিজেদের রক্ষা করি, তেমনি আমাদের প্রিয় গাড়িটিরও একটু স্বস্তি দরকার। এই গরমে গাড়ির যত্ন নিয়ে আজকের শেষ পর্বে তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি জানাবো।

 

প্রথম পর্ব পড়তে  – “এই গরমে গাড়িতে চড়বেন আরামে (১ম পর্ব)

টায়ারের যত্ন কেন! হঠাৎ বিপদ হয় না যেন-

 

বিপদ তো যেকোন সময়ে আসতেই পারে। কিন্তু সেজন্য আপনাকে একটু সতর্ক থাকতে হবে বিপদ থেকে বাঁচার জন্যে। গরমে গাড়ির চাকার ভিতর বায়ুর প্রচন্ড প্রেসার হয়। এরফলে টায়ার একদিকে ফুলে যায়। বেশি পুরাতন টায়ার হলে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। টায়ার কেনার সময় টায়ারের ডট (ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন) নাম্বার দেখে কিনতে হবে। ২০০০ সালের পর থেকে যেসব টায়ার তৈরি হয়েছে সেগুলোর গায়ে চার সংখ্যার নাম্বার থাকে। প্রথম দুই সংখ্যা দিয়ে সপ্তাহ এবং পরের দুই সংখ্যা দিয়ে সালকে নির্দেশ করে। লোকাল সার্ভিসিং এর দোকানে গিয়ে টায়ারের টেম্পার্ডমেন্ট ও হাওয়ার পরিমান জেনে নিতে হবে।

অল্প সময়েই হোক, বেল্ট আর হোস চেক-

গাড়ির হার্ট মানে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরী। কারণ ইঞ্জিন হিট হয়ে গেলেই গাড়ির অন্যান্য যন্ত্রাংশ ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। তাই হোস এবং বেল্টকে চেক করে নিতে হবে। যদি রেডিয়েটরের হোস বেল্টে সমস্যা থাকে তাহলে রেডিয়েটর দ্রুত ওভারহিট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে এর প্রভাব পুরোপুরি ইঞ্জিনের ওপর পড়ে। ইঞ্জিন বিশেষজ্ঞদের সাজেশন হলো বাংলাদেশের রাস্তা অনুযায়ী ৫০০০০ কিলো চালানোর পরেই বেল্ট নষ্ট হতে থাকে। আর গরমের সময়ে যেহেতু হিট বেশি হয় তাই এই সময়ে চেক করিয়ে নিতে হবে।

ওয়েল ফিল্টার, ৪০০০ কিলো হলে চেঞ্জ দরকার-

তেল হলো ইঞ্জিনের চালিকা শক্তি। একটি ইঞ্জিনের সকল পার্টসকে তেল সচল এবং মসৃণ রাখে। কয়েক মিনিট গাড়ি চালিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে তেল চেক করুণ। মূলত দুই ধরনের কালার হবে। তেলের রঙ যদি হলুদ বা বাদামী হয় তাহলে ওয়েল ফিল্টার পরিষ্কার করতে হবে। আর যদি খুব বেশি কালো হয় তাহলে যতদ্রুত সম্ভব ওয়েল ফিন্টার পরিবর্তন করতে হবে। এতে হেলাফেলা হলে কিন্তু ইঞ্জিনের বেশ বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

 

এয়ার ফিল্টার পরিবর্তনে, সাশ্রয় আনে-

এয়ার ফিল্টার পরিবর্তনে প্রায় ১০-১৫% গ্যাস সাশ্রয় হয়। একটা মজার বিষয় শেয়ার করি। নতুন এয়ার ফিল্টারের তুলনায় তুলনামূলক একটু পুরোনো এয়ার ফিল্টার বেশি ভালো কাজ করে। খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালালে এয়ার ফিল্টার বেশি দ্রুত নষ্ট হয়। তাই মাঝে মধ্যে এয়ার ফিল্টার বের করে পরিষ্কার করতে হবে। এই গরমে চারদিকে ধুলাবালি বেশিই হবে । তাই গরমে গাড়িকে ভালো রাখতে এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করতে হবে।

 

এছাড়াও গাড়ি চালানোর সময় যেসব ত্রুটি পাওয়া যাবে সেটা হেলাফেলা না করে দ্রুতই সারিয়ে নিতে হবে। আপনার সামান্য অবহেলা আপনার পরিবারে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আর শখের গাড়ি নিয়ে আর কোন হেলাফেলা হয়। আপনার যাত্রা সহজ এবং নিরাপদ হোক।

    গাড়ির সুরক্ষায় প্রহরী সম্পর্কে জানতে

    Share your vote!


    এই লেখা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
    • Fascinated
    • Happy
    • Sad
    • Angry
    • Bored
    • Afraid

    মন্তব্যসমূহ

    Scroll to Top